1. admin@shikhatvlive.com : shikhatvlive.com :
শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০১:৫৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
শিরোনামঃ

তালতলীর মেধাবী ছাত্র ইসমাইলের অর্থের অভাবে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে মেডিকেলে ভর্তি।

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ এপ্রিল, ২০২১
  • ১২১ বার পড়া হয়েছে

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

প্রচন্ড-ইচ্ছা শক্তি, অদম্য মেধা ও পরিশ্রমের ফলে দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারে জন্ম নিয়েও দমে যাননি মোঃ ইসমাইল। বরগুনার তালতলী উপজেলার দিনমজুর নুরুল ইসলাম বেপারীর এক মাত্র ছেলে তিনি। দিনাজপুরে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজে পেয়েছেন ভর্তির সুযোগ।

মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েও তার মুখের হাসি মলিন। কীভাবে চলবে পড়াশোনার খরচ তা নিয়ে দুশ্চিন্তার যেন শেষ নেই। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তার মেডিকেলে ভর্তি।

 

উপজেলার মোমেসেপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম এর ছয় সদস্যের পরিবারে তিন মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের মধ্যে ইসমাইল তৃতীয় সন্তান। ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী, ইসমাইল তালতলী সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় জিপিএ-৪.৯১ পেয়ে এবং তালতলী সরকারি কলেজ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেন ছোট থেকেই তার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছিল। স্বপ্ন পূরণের জন্য তিনি অধিকাংশ সময়ই লেখাপড়ার পিছনে ব্যয় করেছেন। স্বপ্ন পূরণের এতো কাছে এসেও টাকার অভাবে স্বপ্ন ভেঙে যাবে তা মেনে নিতে পারছেন না ইসমাইল।

তার বাবার দিনমজুরির উপর নির্ভর করেই চলে সংসার। এ অবস্থায় ছেলের পড়াশুনা চালিয়ে নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তার বাবাকে। ছেলেকে মেডিকেলে ভর্তি করে পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা তার নেই। বিত্তবান মানুষের কাছে সাহায্য-সহযোগিতা চেয়েছেন। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে গত কয়েক মাস নিজ বাড়িতেই রাতদিন কঠোর পরিশ্রম করে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেন ইসমাইল। তার সাফল্যে খুশি পরিবারসহ উপজেলার সবাই।

 

ইসমাইল বলেন, আমার স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়ার। আল্লাহ আমাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছেন। আমি মেজর আঃ রহিম মেডিকেলে কলেজে চান্স পেয়েছি। এজন্য আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া, কিন্তু কষ্টের বিষয় হলো আমি মনে হয় ডাক্তারি পড়তে পারবো না, আমাদের আর্থিক অবস্থা এতোই নাজুক, বাবার পক্ষে আমার লেখাপড়ার খরচ চালানো অসম্ভব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ সমাজের সকলের কাছে আমি আকুল আবেদন জানাচ্ছি,সকলের সহযোগিতা ছাড়া আমার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আমি সকলের সহযোগিতায় পড়াশোনা সম্পন্ন করে একজন ভালো চিকিৎসক হতে চাই।

ইসমাইলের বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, মুই মানসের কামহইরা কোন রহম চলি। পোলাডারে লেহাপড়ার খরচ মুই দেতে পারিনাই, পোলাপান পড়াইয়া ও লেহাপড়া হরছে। এ্যহোন ডাক্তারি পড়ার চান্স পাইছে, কিন্তু মোর জমিজমা নাই টাহা পয়সা ও নাই কেমনে পোলাডারে ডাক্তারি পরামু,কিভাবে পড়ামু আল্লাহ জানে। আহমনারা যদি একটু সহযোগিতা হরেন তাহলে মোর পোলাডায় ডাক্তার অইতে পারবে। মুই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ সমাজের কাছে আমার আকুল আবেদন, মোর পোলাডারে একটু লেহা পড়ার দায়িত্ব নেন।

 

তালতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি রেজবি উল কবির জমাদ্দার বলেন, আমি তাকে অভিনন্দন জানাই, সে তালতলী উপজেলার ছেলে হিসেবে মেডিকেলে চান্স পেয়েছে, তার ভবিষ্যত উন্নতি কামনা করি। আমি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে এবং আমার ব্যক্তিগত ভাবেও তাকে সার্বিক সহযোগিতা করব। বিত্তবান মানুষের কাছে আমার আহ্বান তারা ইসমাইলকে সাহায্য-সহযোগিতা করেন। যাতে করে ছেলেটি ডাক্তার হয়ে গরিব ও অসহায় মানুষের সেবা করতে পারে

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি ।